পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে তৈরি হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। স্থানীয় নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অধিগ্ৰহণকৃত ৩ একর জমিতে ৫৯ কোটি ৬৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৮৪ টাকা ব্যয়ে সাততলা বিশিষ্ট শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার দেবীগঞ্জ পৌর সদরের শহীদ আব্দুল মান্নান সড়ক সংলগ্ন স্থানে একটি এবং শিংপাড়া মৌজায় আরেকটি সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই দিনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের "হার পাওয়ার" প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলার ২৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়াও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে উপজেলা ডাকঘর ও দেবীগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে হার পাওয়ার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ এবং ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেবীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপনের চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পলক। পাশাপাশি সৈয়দপুর বিমানবন্দর হতে যাত্রা পথে বিভিন্ন স্থানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি টেস্ট/ড্রাইভ টেস্ট (সড়ক পথে) পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে এস জাফরুল্লাহ চৌধুরী, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা, উপজেলা চেয়ারম্যান মদন মোহন রায়, আইএসপিএবি’র সিনিয়র সহ সভাপতি জাকির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, পঞ্চগড়বাসীর জন্য শেখ হাসিনার উপহার- এই আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেটর সেন্টার হবে পঞ্চগড়ের তরুণ-তরুনীদের স্মার্ট কর্মসংস্থানের ঠিকানা। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে বের হয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেন ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারেন সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজও সমান্তরালে চলমান রয়েছে। এই ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ৫ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারসহ সারা বাংলাদেশে ৫৫৫টি জয় স্মার্ট সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার, নারীদের জন্য হার পাওয়ার প্রকল্প এবং ভবিষ্যতে ৩০০টি আসনেই স্মার্ট এমপ্লয়মেন্ট আন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নতুন শুরু করতে যাচ্ছি। সবমিলিয়ে আগামী ৫ বছরে আইটি-আইটিএস সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করতে চাই এবং নতুন করে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আগামী ২ বছরে নতুন করে আরও ১০ হাজার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয় নি সেগুলোতেও আমরা শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করবো।
এছাড়াও খুবশীঘ্রই গিগাবিট অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশের জেলায় জেলায় স্বল্পমূল্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এরপরে ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের শিংপাড়া মৌজায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। গাছ লাগিয়ে ও বেলুন উড়িয়ে এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এছাড়াও ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, প্রকল্প পরিচালক মোনোয়ার ইশরাত, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, দ্রোপদী দেবী আগারওয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই সভায় প্রতিমন্ত্রী পলক জানান, গত ৬ মাসে এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা দেখার জন্য ২২টি জেলায় সফর করেছি। দেশের ৪৩টি জেলার ১৩০টি উপজেলায় তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নারী ফ্রিল্যান্সার, নারী আইটি সেবাদাতা, নারী ই-কমার্স, নারী কল সেন্টার এজেন্ট এ চারটি ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার দক্ষ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা ২ হাজার স্মার্ট নারী উদ্যোক্তাদেরকে ৫০ হাজার টাকার এককালীন অফেরতযোগ্য অনুদান দিয়েছি এবং আরও ৫ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে অনুদান প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। হার পাওয়ার প্রকল্পের আওতায় সারা বাংলাদেশের ২৫ হাজার নারী উদ্যোক্তাদের ৫ মাসের প্রশিক্ষণ ও ১ মাসের ইন্টার্নশিপ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্মার্ট উপহার একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সফলতার সঙ্গে শিগগিরই হারপাওয়ার-২ প্রকল্প চালু করা হবে।







